বিশ্বনেতারা কাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দেখতে চান?

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, শেষ হাসি কে হাসবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আমেরিকার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। বিশ্বনেতারা কাকে হোয়াইট হাউসে দেখতে চান, তা নিয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। 

বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রার্থীর কাউকেই সমর্থন জানায়নি চীন, ইসরায়েল ও ভারত। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইসরায়োলি প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। কথার ছলে কমলাকে পছন্দ বললেও, পুতিনের পছন্দ ট্রাম্পই। এর জন্য ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রতি নমনীয় অবস্থানকে, কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্বাচিত হলে রাশিয়ার সঙ্গে লড়তে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা কমাবে ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুন, রাশিয়ার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই থাকবে বলে মনে করছে দেশটি।

সরাসরি কমলা বা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয় ট্রাম্প আমলে। তবে বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরাও। চীনের মতো অবস্থান ইসরায়েলেরও। তবে অনেকের মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পাল্লা ভারী ট্রাম্পের দিকেই। 

অপরদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি থাকায়, কমলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান ইউরোপীয় নেতাদের বড় অংশ। এরইমধ্যে কমলাকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শুলৎজ। 

ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে তাঁর কোনো পছন্দের প্রার্থী আছেন বলে মনে করেন না বিশ্লেষকদের অনেকে। 

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট কাউকেই সরাসরি সমর্থন দেননি। তবে দুদেশের সম্পর্ক বাইডেনের আমলে মজবুত হয়। আর ট্রাম্পের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় খরচ না বাড়ানোর অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সমর্থন রয়েছে ট্রাম্পের প্রতি। 

ট্রাম্প জয়ী হলে জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কমবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুল্ক বাড়ানোসহ সামরিক বাজেট বাড়াতে বলবেন ট্রাম্প। আর কমলা প্রেসিডেন্ট হলে কোয়াড জোটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে জাপান। 

অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্প জয়ী হলে নানা প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ফলে কমলার প্রতি নীরব সমর্থন রয়েছে দেশটির।

৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কে জিতবেন তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণের পাশাপাশি চলছে জনমত জরিপ। সবশেষ আইওয়া অঙ্গরাজ্যের একটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে কমলা। জরিপের ফলাফল বলছে, কমলা হ্যারিসকে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৭ শতাংশ মানুষ এবং ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। যদিও এসব জরিপের ফলাফল ত্রুটিমুক্ত নয় এবং এর ওপর নির্বাচনের ফলাফলও নির্ভর করে না। 

ট্রাম্প বা কমলা– যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, তার ওপর শুধু মার্কিনিদেরই নয়, নির্ভর করছে গোটা বিশ্বের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ভাগ্য। বিশেষ করে যখন মার্কিন সমর্থনে ইসরায়েলের আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ইউরোপে অস্থিরতা এবং চীন-তাইওয়ান সংঘাতের মতো বিষয় কোন দিকে যাবে তা এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের ওপর অনেকটা নির্ভর করবে। 

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ডয়চে ভেলে, সিএনএন