ইউক্রেনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ–সংঘাত নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত। যা ভেঙে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা আধিপত্য। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উপনিবেশে চাপা থাকা সভ্যতাগুলো স্বতন্ত্র আত্মা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে জীবন্ত সত্তা হিসেবে জেগে উঠতে চায়।
বিশ্বজুড়ে চলমান দ্বন্দ্ব–সংঘাত নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি। এতে বলা হয়, পশ্চিমা উপনিবেশ থেকে বের হয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বিকশিত হতে চায় সংঘাতে জড়িত গোষ্ঠীগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কৌশল নিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এখনও বিভিন্ন দেশের নির্বাচন নিয়ে নীতিকথা, আদর্শিক অন্ধত্ব, আর্থিক অনুদান দিয়ে ঋণের জালে ফেলা এবং সামরিক সহায়তা দিয়ে সংঘাত উসকে দিতে চায় তারা। কারণ, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর।
বিপরীতে, রাশিয়া বরাবরই বীরদর্পে এবং নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। রুখে দেয় সমস্ত প্রতিকূলতা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইউরোপবাসী নিজেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, রাশিয়ার গ্যাসের অভাবে জার্মানির কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্থবির হয়ে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দেশ ছাড়ছেন প্রকৌশলীরা।
পশ্চিমা মিডিয়াগুলোর পক্ষপাতী মনোভাবের সমালোচনাও করা হয়েছে আরটির প্রতিবেদনে। আরটি বলছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষ, রাডার ডেটা এবং একটি স্বাধীন পর্যালোচনা ছাড়াই কিয়েভের পক্ষে সংবাদ প্রচার করা হয় এবং মস্কোকে কেবলই দাগী আসামি বানানো হয়।
এদিকে, গ্লোবাল সাউথের ক্রমশ শক্তিশালী হওয়া, ব্রিকসের পরিধি বৃদ্ধি এবং ধীরগতিতে হলেও ডলারের পতন—পশ্চিমা বিশ্বের জন্য অশনি সংকেত বলে মত বিশ্লেষকদের একাংশের।