ফের উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, কেন?

ইরান ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, লেবাননে এই হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ইসরায়েলি বিশ্লেষক বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমঝোতা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা।

ইরানের হুমকি ও আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও লেবাননে থামছে না ইসরায়েলি হামলা। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলাও চালিয়েছে তেহরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণ নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক গিডিয়ন লেভির মতে, এটি কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করছে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে না।

তবে লেভি দাবি করেন, ইরান ঘিরে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। সে কারণে ট্রাম্পের সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে পাওয়া সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না নেতানিয়াহু। আর তাই লেবাননে হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি বা কূটনৈতিক সমঝোতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে তেল আবিব। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সীমাও পরীক্ষা করছে তারা।

অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধ, দখল বা নিরাপত্তা ইস্যুতে ইসরায়েলের ভেতরে কার্যকর কোনো শক্তিশালী বিরোধিতা নেই। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির প্রশ্নে মূলধারার রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান প্রায় একই।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি জনমতও সাধারণত নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপায় হিসেবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষেই থাকে। সব মিলিয়ে তাঁরা মনে করছেন, ইসরায়েলের বর্তমান নীতি এখনো সামরিক সমাধাননির্ভর। আর সেই অবস্থান থেকেই চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।