সমঝোতা সইয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মুখোমুখি অবস্থানে ঝুঁকিতে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টা। উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সমঝোতা না হলে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
শনিবার ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরদিন আবারও ইরানে হামলা চালায় ওয়াশিংটন। এবার লক্ষ্যবস্তু সিরিক ও কেশম দ্বীপ।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তাদের এই অভিযান। জবাবে কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাবেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
এই উত্তেজনার মূল কারণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরান কার্যত এই জলপথে চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তেহরান বলছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনার অধিকার তাদের রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ পথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলপথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ওমান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার কথাও উল্লেখ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে অপরকে সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক দরকষাকষির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাই উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।