যুদ্ধ থামেনি। আলোচনাও এগোচ্ছে না। আর এর মধ্যেই বদলে যাচ্ছে ইরানের সামরিক কৌশল। এবার শুধু নিজের ভূখণ্ড রক্ষা নয়; সরাসরি শত্রুর ভূখণ্ডে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সামরিক নেতৃত্বে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনই বড় বার্তা দিচ্ছে—প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক সামরিক নীতিতে ঝুঁকছে তেহরান।
আইআরজিসির জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি জানান, সুযোগ আর নির্দেশ পেলেই ইরানের সামরিক বাহিনী এবার সরাসরি শত্রুর ভূখণ্ডে আঘাত হানবে। বার্তাটা স্পষ্ট—এবার শুধু হামলা ঠেকানো নয়, প্রয়োজনে হামলার উৎসের দিকেও এগোচ্ছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের সামরিক নীতি ছিল মূলত প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক। দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এখন সেই অবস্থান বদলাচ্ছে।
এই পরিবর্তন এসেছে ঠিক এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায়। সবচেয়ে বড় সংঘাতের জায়গা—হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের ওপর শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। তবে ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। এর মধ্যেই মার্কিন বাহিনী একটি পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
অভিযোগ—জাহাজটি ইরানের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং মার্কিন অবরোধ অমান্য করেছিল। অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধ এবং আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করলেও এখনো বড় কোনো সমঝোতা হয়নি।
জুনের অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির ৬০ দিনের সময়সীমাও শেষের দিকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আলোচনা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? ইরান একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। অর্থাৎ একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
ইরান যদি সত্যিই প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক নীতিতে চলে যায়, তাহলে পরবর্তী সংঘাত কি আর শুধু হরমুজ বা সমুদ্রপথেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি এবার ইরানের নতুন যুদ্ধনীতির লক্ষ্য হবে—সরাসরি শত্রুর ভূখণ্ড?
আলোচনার টেবিল যখন অচল, তখন এই প্রশ্নই এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষা, নাকি আরও ভয়ংকর যুদ্ধের প্রস্তুতি—ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপেই মিলবে তার উত্তর। ইরান যদি প্রতিরক্ষা ছেড়ে আক্রমণাত্মক রণকৌশলে এগিয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী যুদ্ধের সীমারেখা কোথায় থামবে? হরমুজে? সমুদ্রে? নাকি সরাসরি শত্রুর ভূখণ্ডে?