ভিজিট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার আগে জেনে নিন এই ৪ নিয়ম

আমেরিকার ভিসা পাওয়াটা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে যখন একটা ভিজিটর ভিসা হয়ত হাতে পেলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন—ভিসা পেলেই কিন্তু সব শেষ নয়? আমেরিকায় পা রাখার পর এমন কিছু ভুল আপনি করতে পারেন, যার কারণে আপনার ভিসা বাতিল হতে পারে, এমনকি আপনাকে চিরতরে নিষিদ্ধও করা হতে পারে। চলুন জেনে নিই, আমেরিকায় ভিজিটর ভিসায় গিয়ে ঠিক কী কী কাজ করলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।

ভিজিটর ভিসা আসলে কী?

সবচেয়ে আগে সহজ করে জেনে নেওয়া যাক, ভিজিটর ভিসা বা বি–ওনান ও বি–টু ভিসা জিনিসটা আসলে কী? মার্কিন ভিসা প্রধানত দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।
১. বি–ওয়ান ভিসা: এটি দেওয়া হয় স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভ্রমণের জন্য। যেমন—আমেরিকায় কোনো মিটিং, কনফারেন্স বা ব্যবসায়িক চুক্তি করতে যাওয়া।
২. বি–টু ভিসা: এটি দেওয়া হয় পর্যটন, দর্শনীয় স্থান ঘোরাঘুরি, স্বজনদের সাথে দেখা করা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে আমেরিকা যাওয়ার জন্য।

সাধারণত মার্কিন দূতাবাস এই দুটোকে একসাথে মিলিয়ে বি–ওয়ান ও বি–টু হিসেবে ইস্যু করে। এই ভিসা মানেই হচ্ছে—আপনি আমেরিকায় একজন সাময়িক অতিথি বা ভিজিটর। এটি কোনো স্থায়ী বসবাসের বা কাজের সুযোগ নয়।

যে ৪ কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

এখন আসা যাক মূল কথায়। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—বি–ওয়ান ও বি–টু ভিসায় গিয়ে আপনি কখনোই ৪টি কাজ করতে পারবেন না। চলুন এক এক করে জেনে নিই।

১. বার্থ ট্যুরিজম: প্রথম এবং সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা হলো—শুধু সন্তানের জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব হাসিলের উদ্দেশ্যে গর্ভবতী অবস্থায় সেখানে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া যাবে না। আমেরিকায় জন্ম নিলেই শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়—এই সুযোগটি নিতে অনেকে ভিজিটর ভিসায় আমেরিকা যান। কিন্তু মার্কিন আইনেই এই বার্থ ট্যুরিজম এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ।

২. স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া। আমেরিকার কোনো নিয়োগকর্তা, কোম্পানি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরণের বেতন বা পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, ভিজিটর ভিসায় গিয়ে আপনি সেখানকার স্থানীয় কোনো কোম্পানিতে চাকরি করতে পারবেন না।

৩. পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা। আমেরিকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে চুক্তিভিত্তিক চাকরি তো দূরের কথা, যেকোনো ধরনের অর্থের বিনিময়ে কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বা ডিগ্রি নেওয়া। আপনি যদি আমেরিকায় কোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট বা ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে চান, তবে ভিজিটর ভিসায় তা সম্ভব নয়। সেজন্য আপনাকে নিয়ম মেনে আলাদা স্টুডেন্ট বা এফ–ওয়ান ভিসা নিয়ে যেতে হবে।

নিয়ম ভাঙলে কী হবে?

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে—অনেকে তো গিয়েই গোপনে কাজ করার চেষ্টা করে, কিন্তু এতে কী সমস্যা হতে পারে? মনে রাখবেন, মার্কিন ইমিগ্রেশন আইন অত্যন্ত কঠোর। আপনি যদি বি–ওয়ান বা বি–টু ভিসার শর্ত বা নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে আপনার বর্তমান ভিসা সাথে সাথে বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি আপনাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা 'ডিপোর্ট' করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আপনার আমেরিকায় প্রবেশের পথ চিরতরে বন্ধ বা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যান করা হতে পারে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনি আর আমেরিকায় যেতে পারবেন না। এমনকি যারা অনিয়ম করে সন্তান জন্ম দেন, পরবর্তীতে পুরো পরিবারের ভিসা নবায়ন বা নতুন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়।

সঠিক নিয়ম কী?

তাহলে আমেরিকায় গিয়ে কাজ বা পড়াশোনা করার সঠিক উপায় কী? খুবই সহজ। আপনি যদি আমেরিকায় কাজ করতে চান, তাহলে আপনাকে সঠিক ওয়ার্ক ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে যেতে হবে। আর পড়াশোনা করতে চাইলে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করতে হবে। ভিজিটর ভিসাকে কোনোভাবেই কাজ বা স্থায়ী হওয়ার শর্টকাট উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

সুতরাং, যারা আমেরিকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা মার্কিন দূতাবাসের এসব নিয়মকানুন মেনে চলুন এবং নিজের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলবেন না।