বিষধর সাপের দংশনে আজ শনিবার ও গতকাল শুক্রবার ৩ জেলায় শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যশোরের শার্শায় এক শিশু, ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ী ও ফেনীতে কৃষকের জীবন গেছে। এরমধ্যে ঝালকাঠি ও ফেনীতে সাপের দংশনের ঘটনায় রোগীদের স্থানীয় হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ না করার অভিযোগ ওঠেছে।
এসব ঘটনায় রোগীদের রাসেলস ভাইপার নাকি অন্য কোনো বিষধর সাপে দংশন করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইনডিপেনডেন্টের ঝালকাঠি প্রতিনিধি আব্দুর রহিম রেজা, ফেনী প্রতিনিধি সমির উদ্দিন ও বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি এম এ রহিমের পাঠানো খবর।
ঝালকাঠি: জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় সাপের দংশনে সেলিম আকন নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে উপজেলার তালতলা বাজারে সেলিম আকনের মুদি দোকানে তাঁকে সাপটি দংশন করে। তিনি উপজেলার পূর্ব বাশবুনিয়া গ্রামের আ. সত্তার আকনের ছেলে।
সেলিম নিজেই উপস্থিত লোকজনকে সাপের দংশনের বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিক তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমুয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অ্যান্টিভেনম রাখার স্টোররুমের চাবি তাঁদের কাছে নেই বলে দাবি করে চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানান। এর ঘণ্টাখানিক পরে রোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পথে সেলিমের মৃত্যু হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপশ কুমার বলেন, ‘সাপে দংশনের রোগীকে ভ্যাকসিন পুশ করার জন্য রোগীর নিকটতম স্বজনের নি-দাবি পত্রে স্বাক্ষর করার বিধান রয়েছে। সেলিমের পক্ষে কেউ স্বাক্ষর না করায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন পুশ করতে পারেননি। পরে কিছু স্বজন আগ্রহী হয়ে তাঁকে বরিশাল নিয়ে গেছেন।’
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদ বলেন, ‘প্রত্যেক হাসপাতালে সরকারিভাবে অ্যান্টিভেনম রয়েছে, তা বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে। রোগী আসলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিভেনম পুশ করার কথা। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
যশোর: জেলার শার্শায় বিষধর সাপের দংশনে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল ৯টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানায় স্বজনরা।
সাপের দংশনে মৃত্যুবরণকারী শিশুটির নাম প্রান্তি খাতুন। সে উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের একঝালা গ্রামের প্রবাসী সোহাগ মিয়ার ছোট মেয়ে এবং এসএম গাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল ছিল।
স্থানীয় নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুল ও শিশুটির স্বজনেরা জানান, শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে ঘরে খাটের কাছে বসা ছিল প্রান্তি। এ সময় তার হাতে বিষধর একটি সাপ দংশন করে। তার হাতের ক্ষতস্থানের ওপরে বেঁধে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নেওয়া হয়।
ফেনী: জেলার সোনাগাজীতে বিষধর সাপের দংশনে মো. ইসমাইল (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে (শুক্রবার) এ ঘটনা ঘটে।
কৃষক ইসমাইল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরসাহাভিকারি গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কারামতিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাড়ির সামনে নারিকেল গাছতলায় একটি সাপ তাঁর ডান পায়ে দংশন করে। তিনি একটি রশি দিয়ে ক্ষতস্থানের ওপরে বেঁধে ঘরে ঢোকেন। প্রথমে বাড়িতে ওঁঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ১টার দিকে তাঁকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ইসমাইলকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, ‘রাতে সাপের দংশনের পর রোগী ইসমাইলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কার্ডিয়াক এরেস্ট জনিত কারনেও তার মৃত্যু হতে পারে।’
এই চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সম্প্রতি রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সাপে কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁকে কেন অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’