বৈশাখী মেলার জন্য মাটির গাড়িসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। তবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এসব খেলনা। গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুড়তলা গ্রামের ননী সিংহ। বৈশাখী মেলার জন্য খেলনাগাড়ি তৈরি করছেন প্রায় ৫০ বছর ধরে। এক সময় এই গ্রামের অনেক পরিবার মাটি, বাঁশ ও কাগজের খেলনা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। এক সময় এসবই ছিল গ্রামীণ মেলার প্রধান আকর্ষণ। এখন হাতে গোনা কয়েকজন ধরে রেখেছেন এই পেশা।
ননী সিংহ বলেন, ‘আগে ব্যবসা ভালো হত। এখন খালি লোকসান।’
আরেক ব্যবসায়ী জানান, আগে অনেক জায়গায় মেলা হত আর এখন অনেক জায়গায় মেলা হতে দেওয়া হয় না। এ কারণে পয়লা বৈশাখে আগের মতো আর লাভ হয় না।
নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত শেরপুরের মৃৎশিল্পীরা। এই জেলার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চান্দের নগর বৈশাখী মেলা এবারও বসবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পয়লা বৈশাখে মেলা উপলক্ষে শেরপুরের মৃৎশিল্পীরা খুশি। বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত তাঁরা।
নীলফামারীর সৈয়দপুরের চওড়া ইউনিয়নের পালপাড়ার মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য প্রায় ৪০০ বছরের। এখনও ১০০ পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন মেলা সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়ে তাঁদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসায় আগের মতো আর মাটির পণ্য তৈরি করে লাভ করা যায় না।
নীলফামারী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন এ শিল্প টিকে থাকতে পারে, পণ্য বাজারজাত করতে পারে এ জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা জরুরি। মাটির খেলনার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রশিক্ষণ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্বও প্রয়োজন।