রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কমছে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি। তবুও সংকট কাটেনি এসব এলাকার কৃষকদের। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না, ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কীভাবে পোষাবেন, সে দুশ্চিন্তায়ও আছেন তারা।
ইদানিং বৃষ্টি না হওয়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা, জাদুকাটাসহ সবগুলো নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমের শেষদিকে এসেও কাটেনি লোকবল সংকট। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না কৃষি শ্রমিক।
চলতি মৌসুমে জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমির বোরো ধানের মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮২০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। শ্রমিকের মূল্য পরিশোধ করতে অনেকেই বিক্রি করছেন ধান।
মৌলভীবাজারে বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপাকে কৃষকরা। প্রতি মণ ভেজা ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। আর শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ।
কমতে শুরু করেছে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানিও। তবে গেল কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে জেলার ১৩ হাজার ৪১৯ হেক্টর জমির পাঁকা ধান। চলছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের পাশ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় আমরা তাই করার চেষ্টা করছি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত যারা তারা যেন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তালিকার প্রস্তুত করার পর এটি আমরা সরকারের কাছে পাঠাব।’
নেত্রকোণায় ধান কাটা, মাড়াই, শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। জেলায় আগাম বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হয়ে গেছে ১৬ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমির ধান। ক্ষতি হয়েছে ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার টাকার।
চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত ২৩ হাজার ৯০৪টি কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।