উত্তরের বিভিন্ন জেলায় নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তিস্তার উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ কমে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও নীলফামারীর চারালকাটা নদী এবং গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও প্লাবিত রয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। অন্যদিকে নীলফামারীর চারালকাটা নদীর তীব্র ভাঙনে ঈমানী ও উত্তর কালিকাপুর গ্রামের বসতবাড়ি এবং সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অন্তত ৩০০ পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
গাইবান্ধায় ফুলছড়িসহ সাতটি উপজেলায় নদীভাঙনে ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে ২৪টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় ভাঙনকবলিত ৪০টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি পয়েন্টে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় প্রায় ৫০০ বিঘা আমনের জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নালা পরিষ্কার করছেন কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পানি নেমে গেলে কৃষকরা পুনরায় ধানের চারা রোপণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে ভাঙনের শঙ্কা রয়ে গেছে।
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন জানান, উপদাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কংশ নদীর জরিয়া পয়েন্ট এবং মগড়া নদীর আটপাড়া পয়েন্টে পানি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এছাড়া সোমেশ্বরী ও ধনু নদীর পানিও কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।