মহাজনের ঋণের জালে বন্দি সুনামগঞ্জের নৌকা কারিগরেরা

মহাজনের ঋণের জালে বন্দি সুনামগঞ্জের মাইজবাড়ী গ্রামের নৌকা কারিগরেরা। লাভের টাকায় ঋণ শোধ করতে গিয়ে ঘুচছে না দারিদ্র্য। এ কারণে শত বছরের পুরানো এই নৌকা বানানোর ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছেন অনেকেই। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা সরকারি অন্য সংস্থা সহজ শর্তে ঋণ পেলে দুর্দিন ঘুচে যেতো- বলছেন এই পেশায় জড়িতরা।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। এরমধ্যে কাঠের নৌকা তৈরির কারিগর কমপক্ষে তিন হাজার। স্থানীয় ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড়শ বছর আগে ইয়াছিন বখত নামের এক কাঠমিস্ত্রি প্রথম এই গ্রামে নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। এরপর এখানে তৈরি হতে থাকে কোষা, ফাতাম, বারকী, কিলুয়া, জুইত নামের বাহারি সব নৌকা।

কালের বিবর্তনে কাঠের দাম বাড়ায় নৌকা-কারিগরেরা পড়েছেন বিপাকে। নৌকা বানাতে মহাজনের কাছ থেকে নিতে হচ্ছে ঋণ। আর তা শোধ করতে হচ্ছে লাভের টাকা থেকে। এ কারণে বাড়ছে দুর্দশা।

কাঠের নৌকা তৈরির ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখতে নৌকা মিস্ত্রিদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

কারিগরেরা বলছেন, শত বছরের পুরনো নৌকা বানানোর এই ব্যবসা হারিয়ে যাচ্ছে আর্থিক সহযোগিতার অভাবে। ঋণ সুবিধা পেলে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাশিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টার কথা জানালেন নৌকা কারিগরেরা।

/এম-আই/