ছয় মাসের ব্যবধানে দুই বাঘের মৃত্যু

ছয় মাসের ব্যবধানে সুন্দরবনে আবার বাঘের মৃত্যু। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই, গায়ে চামড়াও ছিল। তাই বন বিভাগ স্বাভাবিক মৃত্যু বললেও একমত নন স্থানীয় মানুষ ও গবেষকেরা। তারা বলছেন, মাছ মারার টোপের বিষ মিশছে বনের পানিতে। ফলে সংকট হচ্ছে খাবার পানির। এই সংকটে পড়েছে বনের সব প্রাণী।

৩ ফেব্রুয়ারি শরণখোলা রেঞ্জের কবরখালী খালের চর থেকে উদ্ধার হয় একটি বাঘের অর্ধেক অংশ। সেদিন বিকেলে কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা খালের চরে বাঘের মরদেহ দেখেন। স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ধরে নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই কোকিলমনি এলাকায় মরদেহ মাটি চাপা দেয় পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগ। কিন্তু পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর বন বিভাগের ধারনা, বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে দুর্বল ছিল। তাই পানির জন্য নদীর পাড়ে নেমে আর উঠতে পারেনি।

এর আগে গত আগস্টে শরণখোলার ছাপরাখালি থেকে ছয়-সাত বছরের একটি বাঘের মরদেহ উদ্ধার হয়। তবে তখনও বন বিভাগ বলেছিল, বয়সের কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে কাছাকাছি এলাকায় দুই বাঘের মৃত্যৃকে রহস্যজনক বলছেন স্থানীয়রা।

গবেষকদের অভিযোগ, বনের মধ্যে বাঘ বাঁচে ১৬ থেকে ১৮ বছর। কিন্তু মারা যাওয়া এই দুটি বাঘের বয়স কম। তারা বলছেন, বিষটোপ দিয়ে মাছ শিকার করায় ওই টোপের বিষ বনের খালের পানির সঙ্গে মিশছে। জোয়ারভাটার সময় বনজুড়ে ৫০টি মিঠা পানির পুকুরে নোনা পানি ও বিষ মেশানো পানি ঢুকছে। এতে বনে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সুন্দরবনে বন্যদস্যু নিয়ন্ত্রণে এলেও বন বিভাগের টহল আরও জোরদারের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

গত বছর সুন্দরবনের ১৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ করে ১১৪টি বাঘের সন্ধান পায় বন বিভাগ। যার মধ্যে দুটি বাঘের মৃত্যু হলো ছয় মাসে।

//আরএইচ//