দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেখা হলো বাবা-ছেলের। এ যেন নাটক-সিনেমার গল্প আর দৃশ্যকেও হার মানিয়েছে! মানসিকভাবে অসুস্থ সৌদি ফেরত বাবা আবুল কাশেম গত শুক্রবার দেশে ফেরেন। বাড়ির ঠিকানা বলতে না পারায় তার ঠাঁই হয় ব্র্যাকের সেইফহোমে। এ নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ প্রচার করে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। অবশেষে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় তার পরিবারের সন্ধান মিলল।
চট্টগ্রাম থেকে বুধবার সকালে আবুল কাশেমের খোঁজে ব্র্যাকের সেইফহোমে আসেন বড় ছেলে নুর হোসেন ও মেয়ে পারভীন আক্তার। বাবাকে দেখার তর সইছিল না তাদের। বারবার ভেতরে যেতে চাইছিলেন। অন্যদিকে নিজের ঠিকানা ভুলে গেলেও সন্তানকে চিনতে ভুল করেননি বাবা।
সেইফহোমের ভেতর থেকে বৃদ্ধ কাশেমকে সন্তানদের কাছে নেওয়া হলে বাবার পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইলেন ছেলে নুর হোসেন। তার আক্ষেপ, কেন মিডিয়ার মাধ্যমে খুঁজে পেতে হলো বাবাকে। এ সময় ছেলেকে টেনে বুকে নিলেন বাবা। এমন দৃশ্য যেন সত্যি চোখ জুড়ানো
ব্র্যাকের সেইফ হোমে ৫ দিন থাকার পর বাবা আবুল কাশেমকে তুলে দেওয়া হলো তার স্বজনদের কাছে। আবুল কাশেমকে নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরেছেন তার সন্তানরা। তার বাড়ি হালিশহরের দুবাপাড়ায়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সৌদি আরব থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছিলেন এই বৃদ্ধ। কিন্তু তিনি নিজের ঠিকানা বলতে পারছিলেন না। তাঁর কাছে পাসপোর্টও ছিল না। অনেক কিছু ভুলে গিয়েছেন। এরপর বিমাবন্দরের পুলিশ তাকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পাঠায়। তার খোঁজ পেতে ব্র্যাকের কর্মীরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর শুরু করে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়। এরপর চট্টগ্রামের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়রের সহায়তায় তার পরিবারের সন্ধান মেলে।
আবুল কাশেমকে হস্তান্তরের সময় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাসেল তালুকদার এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক ফখরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
হস্তান্তরের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান জানান, বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশসহ সবার সহযোগিতায় বিদেশফেরতদের জন্য আমরা নানান ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।
/জে পি/