লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে শাশুড়ি রাহেমা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বসরোধে হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক জসিম উদ্দিনসহ গৃহবধূ তাহমিনা আক্তারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।
দণ্ড পাওয়া তাহমিনা রামগঞ্জ উপজেলার সাউদেরখিল গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে ও একই উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।
এ মামলায় দণ্ড পাওয়া অন্য আসামি জসিম রাঘবপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। রায়ের সময় জসিম উদ্দিন আদালতে উপস্থিত থাকলেও গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার পলাতক রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্র জানায়, তাহমিনা ও তার চাচাতো ভাসুর জসিম উদ্দিনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল রাতে তাহমিনা ও জসিম উদ্দিন দুবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি তাহমিনার শাশুড়ি রাহেমা দেখে ফেলেন। এতে জসিম উদ্দিন তাকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করতে গেলে জসিম তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে। এসময় তাহমিনা তার শাশুড়ির দুই পা চেপে ধরে রাখে।
এতে রাহেমা বেগম মারা যান। পরে জসিম উদ্দিন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে ঘরে সামনে এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন রাহেমা বেগমের স্বামী আবু তাহের বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে হত্যা মামলায় তাহমিনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ঘটনার ৬ দিন পর ২৭ এপ্রিল হত্যাকারী জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে সৌপর্দ করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় প্রদান করেন।