ঝালকাঠির রাজাপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ক্লাসে পড়া না পারায় পঞ্চম শ্রেণির এই ৫ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন লেবুবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সোহাগ। এ ঘটনার পর স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিভাবকেরা জানান, গতকাল রোববার ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন সোহাগ ব্লাকবোর্ডে দুটি প্রশ্ন লিখে তা পড়তে বলে অন্য রুমে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে এসে শিশু শিক্ষার্থীদের পড়া না হওয়ায় এবং ক্লাসে বসে দুষ্টুমি করার অভিযোগে ক্লাসেই ওই ৫ শিক্ষার্থীকে চড় থাপ্পড় মারেন ও শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে তাদের টেনেহিঁচড়ে স্কুলের মাঠে নামিয়ে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় কয়েক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনা দেখে স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। এরপর দুই শিক্ষক এসে অভিযুক্ত শিক্ষকের হাত থেকে বেত টেনে নিয়ে যান এবং তাকে শান্ত করেন।
নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, শিক্ষক সোহাগ শিশু শিক্ষার্থীর কানে সজোরে চড় মারাসহ বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওষুধ খাওয়ালেও রাতে প্রচন্ড জ্বর আসেয়। ওই শিক্ষক স্কুলে থাকলে এ স্কুলে আর তার ছেলেকে পড়াবেন না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম নুরুল আলম মৃধা সোমবার সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সমীরেন্দু বিশ্বাসকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। প্রতিবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।