বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল মাঝিকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে মেঘনার একটি চরে সয়াবিন ক্ষেতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, নিহত জামাল স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের অনুসারী ছিলেন। সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. শাম্মি আহমেদের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই এমপির সমর্থকরা গত দুই বছর যাবত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এ অবস্থা আরও ভয়ংকর হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে নিহত জামাল মাঝির ঘরে আগুন ও পরিবারের সদস্যদের কুপিয়েছিল প্রতিপক্ষরা।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, নিহত জামাল মাঝি ধুলখোলার পালপাড়া গ্রামের মৃত কাদের মাঝির ছেলে। মেঘনা তীরে তাঁর মাছঘাট রয়েছে। মাছের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চেয়ারম্যান জামাল ঢালীর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্যে বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে নিহতের মাছঘাটের পাশে আরেকটি ঘাট স্থাপন করেন চেয়ারম্যান জামাল।
নিহতর স্ত্রী আঁখি নুর বলেন, ‘আমার স্বামী ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। সকাল ৯টার দিকে চরে সয়াবিন ক্ষেতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।’
ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এনামুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সয়াবিন ক্ষেতের মধ্যে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য রয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আজ রাতে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘নিহত জামাল মাঝি এমপি পংকজ গ্রুপের অনুসারী ছিলেন। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি। হত্যার ঘটনা রাজনৈতিক কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’