ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগর ইউনিয়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতা গোলাম আজম সৈকতের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মিরের হাট সংলগ্ন সোনালী মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, লিফলেট বিতরণ শেষে গোলাম আজম সৈকতের গাড়িবহর তাঁর বাড়ির দিকে ফিরছিল। এ সময় একই পথে চলমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় তাঁর অনুসারীরা সৈকতের গাড়িবহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা বহরের সর্বশেষ একটি মাইক্রোবাস আটকিয়ে ড্রাইভার রফিকের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়িটি ভাঙচুর করে।
এ সময় শ্রমিকদল নেতা সোহেল, বিএনপি নেতা ইউনুস মেম্বার, ইলিয়াস মোল্লা, রিপন বিশ্বাসসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি আন্দোলনের পথে আছে—এটাই তাদের সহ্য হচ্ছে না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গোলাম আজম সৈকতের গাড়িবহরে হামলায় আমি বা আমার কোনো কর্মী জড়িত নই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসূচি শেষ করে ফিরছিলাম। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।’
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।