পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ, বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ এবং নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয়েছেন ছাত্রদলের দুই নেতা। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হাতাহাতিতে জড়ান উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব। পরে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারি সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ কিছু সময় পরীক্ষার কক্ষে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণের অভিযোগও ওঠে।
পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাদিকুজ্জামান রাকিবের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
সাদিকুজ্জামান রাকিবের দাবি, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হচ্ছিল। তিনি এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বরং রাকিবই তার ওপর অতর্কিত হামলা করেছেন।
পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার কক্ষে থাকার সুযোগ নেই। বাইরে থেকে ভিডিও ধারণের ঘটনাও পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে আগেই একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার। তিনি বলেন, কোনো সুপারিশ করা হয়নি। পরীক্ষা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাইয়ান আকাশ জানান, তিনি পরীক্ষার হলে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেননি।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, শুধুমাত্র মেধা ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে।’