পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আলমগীর মাঝি নামের এক জেলের জালে এক খ্যাওয়েতে (একবার জাল টানা) ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। শুক্রবার বিকেলে এসব মাছ মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মনোয়ারা ফিশ নামের একটি আড়তে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে মাছ দেখতে স্থানীয় মানুষ ও পাইকাররা আড়তে ভিড় করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে একবার জাল টানার পরই এসব ইলিশ ধরা পড়ে।
মনোয়ারা ফিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা। সেই হিসাবে ২৪ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।
অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিল ২২ মণ। এসব মাছ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২২ মণ ইলিশের মোট দাম হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ বিভিন্ন পাইকারের কাছে বিক্রি করা হয়।
জেলে আলমগীর মাঝি জানান, বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেসহ এফবি জুনায়েদ নামের একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে যান। পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলার পর একবার টান দিতেই প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ ধরা পড়ে। প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আলমগীর।
মনোয়ারা ফিশের ব্যবস্থাপক সগির আকন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও বেশ ভালো। ফলে জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এক দিনের বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে, আড়তদারসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।’