পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাদরাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে শিমুল হাওলাদার নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই প্রভাবশালীর ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি দরিদ্র ওই পরিবারটি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিস মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে ২৪ আগস্ট তা জানাজানি হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি পাশের বাড়িতে ছিলাম। আমার স্বামীও বাড়িতে ছিলেন না। আমার ছোট মেয়ে ঘরে বসে ফোন দেখছিল। ওই সময়ে শিমুল হাওলাদার ঘরে প্রবেশ করে আমার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। এতে আমার মেয়ে চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।’
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে সালিস মীমাংসা করতে বলছে। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে গেলে তাদের ক্ষতি হবে। তাই স্থানীয় নেতাদের সালিস মানতে বাধ্য হন তিনি। তবে ২৩ আগস্ট তার স্বামী কলাপাড়া থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও লিখিত অভিযোগ এখনও দায়ের করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবদল নেতা শিমুল এর আগেও একাধিক নারীঘটিত অপরাধ করেছেন। কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, দরিদ্র পরিবারটির পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিমুল হাওলাদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা আছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।’
এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় আসার পর আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দায়ের করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’