বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলটির বর্তমান কমিটি ও সাবেক নেতাকর্মীদের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পৃথক কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনা হয়।
এর আগে, গতকাল সোমবার থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ সকাল থেকে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সকালে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে মিছিল বের করলে পৌর শহরের কালীবাড়ি ও বটতলা এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়।
একপর্যায়ে দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এদিকে, সংঘর্ষের সময় প্রেস ক্লাব গলাচিপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের মালিকানাধীন হাবিব রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে রেস্টুরেন্টটির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তাদের ধারণা, এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গলাচিপায় বর্তমান উপজেলা কমিটির নেতাকর্মীরা একদিকে এবং সাবেক নেতাদের অনুসারীরা অন্যদিকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও উত্তেজনা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের সময় সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গলাচিপার এ ঘটনায় পটুয়াখালী পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে অল্প কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল।
তিনি আরও জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’