‘কুমিল্লায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে উপনির্বাচনে সমস্যা নেই’

আসছে ৯ মার্চ ভোটগ্রহণের তারিখ দিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে তফসিলের মাঝেই এই সিটির দুটি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলা প্রশাসক। আবার সীমানা চূড়ান্ত হবার পরই নির্বাচনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাই একই সঙ্গে তফসিল ও সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে কি হবে না তা নিয়ে দোলাচলে ভোটাররা। কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনের জন্য নিয়োজিত রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেছেন, যেহেতু মেয়র পদে উপনির্বাচন তাই ভোটগ্রহণে আইনগত সমস্যা থাকার সুযোগ থাকবে না। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে নির্বাচনী কাজ।

সীমানা নির্ধারণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাজ সঠিক পুনর্বিন্যাসের তথ্য পাঠানো, বাকি সব দেখবেন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন।’

জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। তিনি টানা দুই বারের মেয়র বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুকে হারিয়ে মেয়র হন। নির্বাচিত হবার দেড় বছর পর দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুতে সিটি মেয়রের পদটি শূন্য হয়। এর পরই নিয়ম অনুযায়ী মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলে ৯ মার্চ ইভিএমে ভোটগ্রহণ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের তিন ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক। আর এই সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম চূড়ান্তের পর উপনির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ।

একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার তফসিল এবং সীমানা চূড়ান্তের নির্দেশনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ভোটারদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যমসহ আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে তফসিল অনুযায়ী মেয়র পদে ভোটগ্রহণের দিন ঠিক থাকবে কি না? নাকি তফসিল পরিবর্তন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সচেতন নাগরিক কমিটি-কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং তফসিলের কার্যক্রম দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই দুটি বিষয়ই যেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে শেষ হয়। তাই নতুন যেসব এলাকা বিন্যাস করে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেটিও যেমন জরুরি, তেমনি সঠিক সময়ে তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনও জরুরি।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগ সীমানা নির্ধারণে কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও আরও দুই জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, সীমানা বিন্যাসের প্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেউ আপত্তি বা সংযোজন-বিয়োজন করতে পারবেন। এর পর বিন্যাসের তথ্য পাঠানো হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। বাকি সব নির্ভর করবে মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের ওপর।
 
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, ‘বিষয়টি জেনেই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। আমরা সে অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা নিয়েছি। আর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে এই সমস্যা, যেহেতু মেয়রের ভোট সবাই দেবেন সে ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ বা আইনগত কোনো সমস্যার সুযোগ থাকবে না। কারণ সবাই মেয়র পদে ভোট দেবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নয়।’

মো. ফরহাদ হোসেন আরও জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ভোট হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। নির্বাচনের আগে মেশিনগুলো দুই বার পর্যবেক্ষণ করা হবে।

খসড়া অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ২৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ১৭৯ জন। হিজরা ভোটার আছেন দুই জন।