সীমান্তে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে আলাদা প্রস্তাবনা। এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরীক্ষার্থীরাও আছে আতঙ্কে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানটি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এবারও এই কেন্দ্রে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫৯ জন, বালুখালী কাশেমীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭১ জন এবং কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩৩ জনসহ মোট ৪৬৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবেন৷
কিন্তু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে আতঙ্কে রয়েছে এ জনপদ। ফলে শঙ্কায় রয়েছে এ অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম নিয়ে। মঙ্গলবার সকালে এই স্কুলের পাশে ওপাড় থেকে ছোঁড়া মর্টার শেল এসে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। থমথমে এলাকায় সাধারণ মানুষ আছে ভয়ংকর আতঙ্কে।
ইতোমধ্যে এই কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে দোটানায় পড়েছে প্রশাসন। বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে আলাদা দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রস্তুত করে শিক্ষা বিভাগে প্রতিবেদন পাঠিনো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন।
এদিকে, পরীক্ষা কেন্দ্রের বদল হলেও সীমান্তের গ্রাম তমব্রু, কোনারপাড়া, জলপাইতলীতে বসবাসকারি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আছে আলাদা দুশ্চিন্তা। তাঁদের যাতায়াত কিংবা বাড়িতে অবস্থানই এখন বড় বিপদের শঙ্কা তৈরি করেছে। শিক্ষকরা বলছেন, বিপদের মুখে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার সময়ও সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হলে এই পরীক্ষা কেন্দ্রটি কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
এদিকে, দিনভর সংঘর্ষ আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা জনপদগুলোতে। আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) দুই শতাধীক সদস্য।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত বিজিপি, মিয়ানমার সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার ২৬৪ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।