বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রুর পশ্চিমকূলে ফসলের ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি অবিস্ফোরিত রকেট লঞ্চার কুড়িয়ে পেয়েছেন এক মহিলা। পরে সেটি নিজেদের হেফাজতে নেয় বর্ডার গার্ড বাংলদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে রকেট লঞ্চারটি পান স্থানীয় রাজিয়া বেগম। তিনি সেটি বিস্ফোরিত মনে করে ঘরে নিয়ে আসেন। পরে তাঁর দেবর সেটি দেখে পাশের বিজিবি চেকপোস্টে জমা দেন। বিজিবি রকেট লঞ্চারটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পেয়ে রাস্তার পাশে রেখে জায়গাটি ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয় বিজিবি।
এর আগে, ঘুমধুম সীমান্তে আরও একটি রকেট লঞ্চার উদ্ধার করেছিল বিজিবি৷ সেটি শুক্রবার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
শুক্রবার বান্দরবান এবং কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় সারাদিন গোলাগুলির তেমন শব্দ শুনা যায়নি। হঠাৎ রকেট লঞ্চারটি উড়ে এসে পড়ায় সেখানে আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী প্রদেশে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই এখন তুঙ্গে। সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সুচির সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। নির্মমভাবে দমন করা হয় বিক্ষোভকারীদের। জবাবে হাতে অস্ত্র তুলে নেয় গণতন্ত্রকামীরা। বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয় তারা। পাশাপাশি আরাকান আর্মি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স আর্মি ও ট্যাঙ্গ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি নিয়ে গঠিত থ্রি ব্রাদারহুড এলায়েন্স সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গত তিন বছরের গৃহযুদ্ধে ৩ শর বেশি সেনা চৌকি এবং ২০টি শহর দখল করে নিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো।
২০২২ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তে। তখনও কিছু গোলা এসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।