ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ছাত্রীদের উত্যক্তের ঘটনায় দেওয়া অভিযোগের সাক্ষীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে হুসাইন মুন্না নামে ওই যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হুসাইন মুন্না উপজেলার রতনপুর গ্রামের পল্লি চিকিৎসক খুরশিদ আলমের ছেলে। এর আগে গত বুধবার স্থানীয় ৫-৬ জন যুবক তাঁকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন– একই এলাকার মো. আল-আমিন, সাব্বির মিয়া ও মাসুম মিয়া। অভিযুক্তদের সকলের বয়স ১৮–২০ বছরের মধ্যে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাতলপাড় ইউনিয়নের ইকরা দারুল কুরআন বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু যুবক তাদের উত্ত্যক্ত করতেন। প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসার শিক্ষকদের হুমকি-ধমকিও দেন তাঁরা। মাসখানেক আগে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় সুমন মিয়া নামে এক অভিভাবক সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। মুন্না ছিলেন ওই অভিযোগের দ্বিতীয় সাক্ষী।
ওই ঘটনার পর বুধবার মুন্নাকে স্থানীয় চকবাজারে গেলে সেখানে তাঁকে মারধর করেন ৫-৬ জন বখাটে যুবক। এতে তিনি মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে প্রথমে তাঁকে কিশোরগঞ্জের ভাগলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজধানীর হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন ওই যুবক মারা যান।
ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদ্রাসাটির শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্রীদের প্রায় সময়ই বখাটেরা উত্ত্যক্ত করে। এর আগে আল-আমিন ও মাসুম উত্ত্যক্ত করলে তাদের পরিবার মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। ফের উত্ত্যক্ত করলে অভিভাবক সুমন লিখিত অভিযোগ দেন। এতে আমি প্রথম ও মুন্না দ্বিতীয় সাক্ষী হই। সাক্ষী হওয়ায় মুন্নাকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করা হয়।’
অভিযোগ করা অভিভাবক সুমন মিয়া বলেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, ‘ইউএনও অফিসে দেওয়া লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানা তদন্ত করি। তবে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে অভিযুক্তরা মুন্নাকে মারধর করতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।’