কেএনএফ সংশ্লিষ্টতায় ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭ 

বান্দরবানের রুমায় ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ভানমুন নোয়াম বমসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে মুনলাই পাড়া ও লাইমি পাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে, আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। 

পুলিশ জানায়, গত ২ এপ্রিল রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় মামলায় মুনলাই পাড়া থেকে ৬ জন ও লাইমি পাড়া থেকে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। পরে তাদের রুমা থানায় সোপর্দ করা হলে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়। 

গ্রেপ্তার অন্য আসামীরা হলেন তারা হলেন- লাইমি পাড়া বাসিন্দা ভান বিয়াক লিয়ান বম (২৩), রুমা মুনলাই পাড়া বাসিন্দা লাল নূন নোয়াম (৬৮), লাল দাভিদ বম (৪২), চমলিয়ান বম(৫৬), লাল পেক লিয়ান বম(৩২) ও লাল মিন বম (৫০)। 

রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, অস্ত্র লুট ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা ৯ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জন নারীসহ ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। 

এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পরদিন থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়। 

৪ এপ্রিল রাতে অপহৃত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে রুমা বাজার থেকে উদ্ধার করে র‍্যাব। এর পরপরই থানচি থানা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই গোলাগুলি চলে।

স্থানীয়রা বলছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। এ সময় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁরা প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। 

এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিন মধ্যরাতে আলীকদমের ২৬ মাইল ডিম পাহাড় এলাকায় যৌথবাহিনীর চেক পোস্টে হামলা হয়। সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই কেএনএফ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী।