পটিয়ায় আসামি ছিনিয়ে নিতে থানায় হামলার অভিযোগ

মহানবীকে (স.) কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবককে তুলে দেওয়ার দাবিতে একদল মানুষ চট্টগ্রামের পটিয়ায় থানায় হামলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কটূক্তির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করলেও পুলিশের দাবি, থানায় কোনো হামলা হয়নি। 

সোমবার বিকেলে হওয়া এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পার্থ বিশ্বাস পিন্টু নামের এক যুবক ফেসবুক থেকে মহানবীকে (স.) কটূক্তি করে মন্তব্য প্রকাশ করে। এ ঘটনায় পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামরুল ইসলাম রোববার থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পটিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানার উত্তর মাদারবাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

পিন্টুকে গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা থানার সামনে জড়ো হয়। তারা সেই যুবককে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। পুলিশ রাজি না হওয়ায় তারা থানা প্রাঙ্গণে বিচার প্রার্থীদের অপেক্ষার জন্য নির্মিত গোলঘরটি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সেনা সদস্যরাও থানায় আসে। 

একই সময় থানার সামনের সড়ক দিয়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি যাচ্ছিল। ওই গাড়িতে সিভিল পোশাকে এক যুবক বসে ছিলেন। উন্মত্ত জনতা ওই যুবককে পিন্টু মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সেনাবাহিনীর ওই গাড়িটিসহ মোট দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে সেনাবাহিনীর গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় একজন সেনাসদস্য আহত হওয়ার কথা জানা যায়, তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবীকে (স.) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পার্থ বিশ্বাস পিন্টু নামে এক যুবককে দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রেপ্তারের পর পটিয়া থানায় নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার হওয়া পার্থ উপজেলার শোভনদণ্ডি ইউনিয়নের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে চালান করা হয়। 

থানায় হামলার খবর অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘থানায় লোকজন এলেও, কোনো হামলা হয়নি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’