খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক প্রবাসীর হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ। বাহিনীটি জানায়, অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে ১১ বছর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন প্রবাসী শাকিল প্রকাশ মুসা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ওমান প্রবাসী শাকিলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল ভাবি নাসিমা আক্তারের। শাকিল প্রবাসে থাকাকালীন আরেকজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ও পরবর্তীতে বিয়ে হয় নাসিমার। শাকিলের পাঠানো অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে কৌশলে তাঁকে ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে এনে খুন করেন নাসিমা ও তাঁর সহযোগীরা। পরে শাকিলের মরদেহ গুম করা হয়। এরপর নাসিমা শাকিলের মাকে জানান, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনার সাক্ষীও হন তিনি। কিন্তু পুলিশের তদন্তে নাসিমা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বর্তমানে নাসিমা আক্তার তাঁর স্বামী মনির হোসেনসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন।
তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কিছু হাঁড়, মাথার খুলি ও কাপড়ের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে জানা যায়, মরদেহটি শাকিলের।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।