মহাসড়ক দাপাচ্ছে থ্রি-হুইলার: পুলিশ বলছে, বন্ধে বিশৃঙ্খলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার। নগরীর সিটি গেট থেকে সীতাকুণ্ড-মীরসরাই পর্যন্ত নানা গতির এসব থ্রি-হুইলারের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। চার লেনের এই সড়কে দিনে-রাতে ছুটে চলে যাত্রীবাহী বাস ও বিভিন্ন ধরনের ভারি লাখো যানবাহন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের চট্টগ্রাম অংশে বেড়েছে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পুর মতো থ্রি-হুইলারের দৌরাত্ম্য।

মহাসড়কের দুই লেনেই চলে এসব যান। অনেক সময় উল্টো পথেও ছুটে আসে গাড়ি। নিজেদের বিপদ জেনেও উচ্চগতির বাস-ট্রাক-লরির সঙ্গে পাল্লা দেয় থ্রি-হুইলারের চালকরা।

আইনের তোয়াক্কা না করেই মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যান। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় প্রভাবশালীদের মদদে এসব যানবাহন চলাচল করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের বিভাগীয় সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছি, থ্রি-হুইলারগুলো মহাসড়কে বন্ধ করা হোক। কিন্তু অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এটা অব্যাহত রেখেছে। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ থাকার পরও এই গাড়িগুলো কীভাবে চলে?’

নানা কারণে সম্প্রতি এই ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান কমেছে বলে দাবি পুলিশের। তবে এসব বন্ধ করলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে বলেও যুক্তি দিচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, ‘থ্রি-হুইলার বন্ধ করলে, তার যে চাপটা, তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টাও তো সরকারকে মনে রাখতে হয়। ব্যালান্স করেই আসলে চলতে হয়। আমরা বন্ধ করতে পারি, কিন্তু পুরোপুরি করতে গেলে যে চাপটা আসবে, সেটা আবার কীভাবে মোকাবিলা হবে, জানি না।’

নানা গতির এসব থ্রি-হুইলারের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীতঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই পর্যন্ত অংশে গত এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭০ জন। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।