সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কক্সবাজার শহরে দিনব্যাপী ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাগরপাড়ের ৫০০ প্রান্তিক পরিবার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে তিন লাখ টাকার খাদ্যপণ্য পেয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার শহরের উপকূলীয় সমিতিপাড়ায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ২০২২ সাল থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৫০০ প্রান্তিক পরিবার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে ৩ লাখ টাকার ১৯ ধরনের খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন। এতে প্রতিটি পরিবার ১ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ৬টি ডিম, ১ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ১ কেজি চাল, ৫ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ১ লিটার তেল এবং ২ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ১ কেজি ডাল পেয়েছেন। যারা যে পরিমাণ প্লাস্টিক জমা দিয়েছেন, বিনিময়ে সেই পরিমাণ খাদ্যপণ্য পেয়েছেন। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় সংগৃহীত প্লাস্টিকগুলো বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রিসাইক্লিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন একসঙ্গে কাজ করছে। এতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষেরা খাদ্যপণ্যের সহায়তা পাচ্ছেন। এই ধরনের কর্মসূচি প্রশংসার যোগ্য।
আয়োজক সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা প্রতি বছরই পুরো কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে চার মাসব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এই চার মাসে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে ২ লাখ কেজি সামুদ্রিক প্লাস্টিক সংগ্রহ করে শতভাগ রিসাইকেল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ২৭ হাজার কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপকারভোগীরা জানিয়েছেন, এলাকায় মাইকিং শুনে গত এক সপ্তাহ ধরে সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছেন। তারা সংগৃহীত প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্যপণ্য পেয়েছেন, যা তাদের জন্য অনেক উপকারে এসেছে।