রুমিন ফারহানার আছে ৬ ফ্ল্যাট, ওয়াজ মাহফিলই পেশা জুনায়েদের

ঢাকায় ছয়টি ফ্ল্যাটের মালিক রুমিন ফারহানা, এসব বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর দেওয়া হলফনামায় এসব সহায়-সম্পদের বিবরণ রয়েছে। এর আগে, নারী সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর ৮০ ভাগ সফলতা ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার আংশিক) আসনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এরপরই দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। আসনটিতে বিএনপির ছাড়ে প্রার্থী হয়েছেন জমিয়ত উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি ওয়াজ মাহফিল করাকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে।

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত ২৯ ডিসেম্বর ১১ জন দাখিল করেন।

আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ঢাকার লালমাটিয়ার বি-ব্লকে ৫টি ফ্ল্যাট ও ৫ কাঠা জমি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে বাবা অলি আহাদের কাছ থেকে। মা রাশিদা বেগমের কাছ থেকে ধানমন্ডি ল্যাবরেটরি রোডে পেয়েছেন ১৬২৫ স্কয়ার ফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট। এছাড়া পুরানা পল্টনে শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণিতেও ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের মোট ২১৪২ বর্গমিটারের স্পেস রয়েছে। বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বার এট’ল সম্পন্ন করার পর সুপ্রিম কোর্টে আইনপেশায় নিয়োজিত রুমিন ফারহানা পেশা থেকে তাঁর আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। স্বর্ণালংকার রয়েছে ১০ ভরি। তবে তাঁর কোনো গাড়ি নেই। ২০২৫ সালে দেওয়া আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।

রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ২০১৮ ও ২০২৩ সালে ৪টি ফৌজদারি মামলা হয়। যেগুলো ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের (নির্বাচনী এলাকা ৩৫০, মহিলা আসন ৫০) সংসদ সদস্য হিসেবে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে রাস্তাঘাট উন্নয়নে ৭০ পার্সেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ৬৫ পার্সেন্ট, মাদক নিয়ন্ত্রণে ৮০ পার্সেন্ট এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ৫০ পার্সেন্ট সফলতার উল্লেখ করেছেন হলফনামাতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপির ছাড়ে প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলার অষ্টগ্রামের বাসিন্দা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি স্ব-শিক্ষিত। ওয়াজ মাহফিল তাঁর পেশা। যা থেকে আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে। যার সবগুলোই চলমান। এছাড়া হলফনামায় তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৩ টাকা। দুটি ব্যাংক হিসেবে গচ্ছিত আছে আরও ১০ লক্ষাধিক টাকা। বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩৫ ভরি। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৪ টাকা। ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৭৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। এছাড়াও ১ কোটি ৫১ লাখ ৭ হাজার ২৬৮ টাকা মূল্যের ২টি বাড়ি ও ২৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ১টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে কোনো গাড়ি নেই। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৭ হাজার ৭৭৬ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮৮ টাকা।

এ দুজন ছাড়াও মনোনয়ন দাখিল করেছেন আমজনতা দলের শরিফা আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাঈনউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আবুল ফাতাহ মো. মাসুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেছার আহমদ, জেএসডির তৈমুর রেজা মো. শাহজাদ, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোবারক হোসাইন, স্বতন্ত্র এস এন তরুণ দে, এনসিপির আশরাফ উদ্দিন (মাহদি)।

শিক্ষায় স্নাতকোত্তর এস এন তরুণ দে পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার ৯৩ টাকা। বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৮ হাজার ৬৫৫ টাকা। এ খাতে নির্ভরশীলদের আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯২ হাজার ২৩২ টাকা। তাঁর অংশীদারি ফার্মে মূলধন রয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬২ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৬ টাকার এবং মেয়াদি আমানত রয়েছে ২০ লাখ টাকার। ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের একটি মাইক্রোবাস রয়েছে। স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ২২ ভরি। সরাইলের কালীকচ্ছ মৌজায় ১ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, আশুলিয়ায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের ১০৩০ বর্গফুট জমি এবং ধানমন্ডিতে ১৫৫০ বর্গফুট আয়তনের ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৫৬০ টাকা মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নে তিনি আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯২ হাজার ২৩২ টাকা আর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৮১ লাখ ৬৯ হাজার ২৬৯ টাকা।

জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আসনটি চাইছে এনসিপি। এনসিপির আশরাফ উদ্দিন (মাহদি) হলফনামায় তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে। ১৯৯৩ সালের ২২ মে জন্ম মাহদির, শিক্ষায় এমএ পাস। তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। স্বর্ণালংকার রয়েছে ১০ ভরি।

নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দিদিল গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. মোবারক হোসাইন কামিল পাস। শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসায় নিয়োজিত তিনি। ২০১৮ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় ২০২৫ সালে খালাস পেয়েছেন। তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৭ টাকা। দুটি ব্যাংক হিসেবে জমা রয়েছে আরও ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৭ টাকা। প্রতিদ্বন্দ্বিতার নানা হিসেবে এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয় জামায়াতের এই প্রার্থীকে।