ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান কাজী মো. আতাউর রহমান  

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন কাজী মো. আতাউর রহমান (গিলমান)। তিনি জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস (কে.বি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তার হাতে পুরস্কারের সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এহসান মুরাদ। 

এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এ বছরের শ্রেষ্ঠ স্কাউট নির্বাচিত হয়েছে ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস (কে.বি) উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রাচুর্য সরকার আদৃত। 

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে অভিজ্ঞতা, ছাত্র–ছাত্রী ও সহকর্মীদের ওপর প্রভাব এবং অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব, চারিত্রিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও সুনাম, প্রশাসনিক দক্ষতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, পাঠ্যপুস্তক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা, পেশাগত/গবেষণামূলক সৃজনশীল প্রকাশনা, আইসিটি বিষয়ে দক্ষতা, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বিদ্যালয় পুনঃসজ্জিতকরণ, গুণগত শিক্ষায় উদ্ভাবনী/সৃজনশীল উদ্যোগ ও উত্তম চর্চার নিদর্শন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের কর্মকালে দৃশ্যমান উন্নয়ন ও গুণগত পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য বাস্তবায়িত কর্মকাণ্ড ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা, কারিকুলাম বাস্তবায়ন, সেমিনার, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ইত্যাদি মানদণ্ডের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচন করা হয়। 

বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজী মো. আতাউর রহমান ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস (কে.বি) উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১১ সাল থেকে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে তিনি একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে সহকারী শিক্ষক (হেড মাওলানা) হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। 

কাজী মো. আতাউর রহমান এর আগে, ২০০২ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২৪ সালে মোট চারবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন তিনি।

সফল সংগঠক কাজী মো. আতাউর রহমান নাসিরনগর উপজেলা বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্সমচারী সমিতির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে একাধারে ১২ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই মেয়াদে ৬ বছরের অধিক সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 
কাজী মো. আতাউর রহমানের জন্ম নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামে। তিনি ১৯৮৩ দাঁতমন্ডল এরফানিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল, এরপর কুমিল্লার দ্বেবিদ্বার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধামতী ইসলামীয়া আলিয়া মাদরাসায় আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে আলিম ও ফাজিল শেষ করে একই মাদরাসা থেকে ১৯৮৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে কামিল (হাদিস শাস্ত্র) পাস করেন। এরইমধ্যে তিনি ১৯৮৮ সালের মাঝামাঝিতে মাদরাসা–ই মিরানিয়া কচুয়ার সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ছমাস দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ২০০৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পেশাগত ডিগ্রি হিসেবে ২০১০ সালে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি,এড) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শ্রেষ্ঠ স্কাউট হিসেবে পুরস্কার নিচ্ছে প্রাচুর্য সরকার আদৃত। ছবি: সংগৃহীত

প্রাবন্ধিক ও লেখক হিসেবেও সুনাম রয়েছে কাজী মো. আতাউর রহমানের। তার বেশ কিছু সৃজনশীল লেখা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। দৈনিক আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, আমার দেশ, জনকণ্ঠ, বাংলা বাজার, সাপ্তাহিক ৭১ এবং’সহ অনেক জাতীয় পত্রিকায় তার কলাম, প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সূচনা’ নামে একটি স্কুলবার্ষিকী নিয়মিত প্রকাশ করছেন, যা নাসিরনগর উপজেলায় এক মাইল ফলক সৃষ্টি করেছে। ‘নির্বাচিত নাতে রাসূল (সা.)’ ও ‘শানে মুর্শিদ’ নামে দুটি ইসলামী সংগীতের বইয়ের রচয়িতা তিনি। 

কাজী মো. আতাউর রহমান ১৯৯৩ সাল থেকে কুলিকুন্ডা আশরাফিয়া জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি নাসিরনগর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই হামদ, নাত ও কেরাত প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া তিনি ১৯৮৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগে কেরাত প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম টেলিভিশন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এ বছর কলেজ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন কসবা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. তসলিম মিয়া, মাদরাসা পর্যায়ে আশুগঞ্জের চরচারতলা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মোল্লা ও কারিগরিতে নবীনগরের তোফায়েল আলী কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিঞা মোহাম্মদ সেলিম।