নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেনকে (৩৫) এবার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি টিম বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদীনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে একশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন।

ওসি বলেন, গ্রেপ্তার দেলোয়ার পূর্ব একলাশপুর গ্রামের প্রয়াত ছায়েদুল হকের ছেলে। ‘দেলোয়ার বাহিনী’ প্রধান হিসেবে পরিচিত দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় অস্ত্র, হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। 

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা মধ্যবয়সী এক নারীকে ঘরে ঢুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। ঘটনার একমাস পর মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়৷ সন্ত্রাসীদের ভয়ে আত্মগোপনে থাকা ওই নারীকে ওইদিনই উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়৷ ঘটনাটি দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তখন বিভিন্ন সংগঠন নিপীড়কদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে৷

পরে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্ণগ্রাফি আইনে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দুটি মামলা করেন ওই নারী৷

তিনি একই থানায় আরেকটি মামলা করেন, যেখানে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর এবং ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল দুই দফায় তাকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী আবুল কালামের বিরুদ্ধে৷

২০২১ সালের ৪ অক্টোবর ওই ধর্ষণ মামলায় রায়ে দেলোয়ার ও কালামকে যাব্বজীবন করাদণ্ড দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল৷

একই বছর ১৪ ডিসেম্বর বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মামলায় দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন৷

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার জানিয়েছেন, গত ২২ রমজানে জামিনে কারাকার থেকে বের হন তিনি। শনিবার ডিবি পুলিশের একটি দল ইয়াবার ক্রেতা সেজে তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান ডিবি পুলিশের ওসি মো. মহিউদ্দিন।