খাগড়াছড়ির গুইমারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পৃথক দুটি হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ছয় নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার বাইল্যাছড়ি ও বড়পিলাক এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক এলাকার মো. হাসেমের বাড়িতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করেন। এমন খবর পেয়ে সেখানে যান বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পাল্টা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হন।
আহতরা হলেন–হাফছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির, বড়পিলাক ওর্য়াড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য জাহাঙ্গীর আলম রনি এবং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য মামুন ও সদস্য মাহবুব আলম।
অন্যদিকে দিকে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকায় গুইমারা ইউনিয়ন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ওমর ফারুক বাবুর ওপর পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী বাপ্পি ও ত্রিপুরার নেতৃত্বে কয়েকজন। হামলায় বাবুর মাথা গুরুতর জখম হয়।
গুইমারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আরিফ বলেন, বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী। তারা জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার বলেন, ‘পৃথক দুটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।’
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, বড়পিলাক এলাকায় হামলার ঘটনাটি শুনেছি। তবে বাইল্যাছড়ির বিষয়টি জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।