শিক্ষার্থীর মুখে বেত ঢুকিয়ে শিক্ষক লিখলেন, ‘কান্না করাতে ভালোই লাগে’

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় মাদ্রাসায় পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ভিডিওর শিরোনামে তিনি লিখেছেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’।

প্রায় আড়াই মাস আগের এই ভিডিওটি সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরআবাবিলের বাংলাবাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গত শনিবার ফেসবুকে ক্ষমা চেয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ রোববার বিকেলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পরই খোঁজখবর নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে নেই এবং মাদ্রাসাটির কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ভাইরাল হওয়া ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার তিনি ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি ভিডিওতে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে তিনি বলেন, ‘ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টিআরএম কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় আড়াই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইমরান টিকটকে ভিডিও বানাতেন। শুরু থেকেই তাঁর আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁকে কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছে।’