অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী। বন্যার পানি নেমে গেলেও হাজারো পরিবারের ঘরে ফেরার পথ এখনো অনিশ্চিত। পুনর্বাসনই এখন সবার দাবি। এদিকে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি টেকসই আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে আইওএম।
বন্যার পানি সরে গেছে। কিন্তু রেখে গেছে ধ্বংসস্তূপ আর দীর্ঘশ্বাস। বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় ১২ হাজারেরও বেশি মাটির ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে কিংবা ভাঙা ঘরেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গৃহহারা মানুষদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।’
মানবিক এই সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা—আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. টম লরা বন্ডি। বন্যা পরবর্তী সহায়তায় টেকসই পুনর্বাসনই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ আইওএম এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, ‘এই প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম এবং প্রাথমিক সহায়তা মূলত মানবিক সহায়তার আওতায় পড়ে। তবে এসব সম্প্রদায়ের জন্য আমাদের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান। কারণ আমরা জানি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আবারও ঘটতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারা বিশ্বেই বাড়ছে, তবে বাংলাদেশ এ প্রভাবের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।’
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় দুই লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলেও অনেক পরিবারের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি।