দুর্গম পাহাড়ে পানি বিশুদ্ধকরণে আধুনিক ব্যবস্থার দাবি

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির সংকট দীর্ঘদিনের। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায়, বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে প্রাচীন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন স্থানীয় জুমচাষিরা। বাঁশ আর পলিথিন দিয়ে তৈরি করেছেন অস্থায়ী ড্রাম, যা এখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সারা বছরের পানির অন্যতম উৎস।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত রুমা উপজেলার হ্যাপিহিল, মুননোয়াম, আরথাপাড়াসহ অন্তত ২৫টি গ্রাম। উচ্চতার কারণে রিংওয়েল বা টিউবওয়েল বসিয়েও মিলছে না ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। তাই পানির তীব্র সংকট সমাধানে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন পাহাড়িরা। বাঁশ দিয়ে বড় ঝুড়ির মতো কাঠামো তৈরি করে, ভেতরে মোটা পলিথিন ও চটের আস্তরণ দিয়ে তৈরি করছেন পানির ট্যাঙ্কি।

তবে উন্মুক্ত এই ড্রামে সংরক্ষিত পানি সরাসরি পানের উপযোগী নয়। ফলে বিকল্প উপায়ে পানি বিশুদ্ধকরণের পাশাপাশি এই ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার দাবি স্থানীয়দের।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, দুর্গম এলাকায় পানির সংকট মেটাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ চলছে। আর গবেষকদের মতে, এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সমাধান হবে পাহাড়ি অঞ্চলের পানির সংকট।

রুমা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা বলেন, ‘দুর্গম এলাকায় পানির সংকট মেটাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ চলছে।’

বান্দরবান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সমাধান হবে পাহাড়ি অঞ্চলের পানির সংকট।’

যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি সহায়তা পেলে স্বল্প ব্যয়ের এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি পাহাড়ে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়ে উঠতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।