বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক, পুশইনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সীমান্তে পুশইন, চোরাচালান ও নানা সংকটের প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাঝে অধিনায়ক পর্যায়ের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার বিলোনিয়া আইসিপি এলাকায় অনুষ্ঠিত এই নিয়মিত বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান বন্ধসহ সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মজুমদারহাট বিওপি'র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলোনিয়া আইসিপিতে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এতে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমানের সঙ্গে পাঁচজন কর্মকর্তা ও ১৫ জন অন্যান্য পদবির সদস্য অংশ নেন। অন্যদিকে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির সঙ্গে নয়জন সদস্য অংশ নেন।

সূত্র আরও জানায়, সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে উভয়পক্ষ আলোচনা করে। পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান, বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধে একে অপরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তে যেকোনো সমস্যা প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে উভয়পক্ষ একমত হয়। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সমাধান না হলে অধিনায়ক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তের জমি নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরোধের ক্ষেত্রে মারামারিতে না জড়িয়ে উভয়পক্ষের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয় উভয়পক্ষ।

এ ব্যাপারে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুইপক্ষের কর্মকর্তাদের পরিচয় পর্ব হয়েছে। এছাড়া সীমান্তের নানা বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে কথা হয়েছে। পুশইন বন্ধের বিষয়েও তাদের বলা হয়েছে। এতে তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জুলাই ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাত নারী-শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় ওই সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি বাধা দিলে পরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। 

এর পরদিন একই উপজেলার কেতরাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ফের বিএসএফের সহায়তায় এক নারী ও তিন শিশুসহ মোট চারজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। সেদিনও বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।