সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ভারী বৃষ্টিতে তলিয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিচু এলাকা। মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালীর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা। বন্ধ হয়ে গেছে লংগদু-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে মাইনী নদীর পানি।
ভারী বৃষ্টি ও ঢলে শুক্রবার রাত থেকে বাড়তে থাকে মাইনী নদীসহ পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি। প্লাবিত হয় দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন নিচু এলাকা।
এর আগে গেল ২২ আগস্ট বৃষ্টিতে পানি বাড়ায় তলিয়ে যায় নিচু এলাকাগুলো। সেই দফায় পানি নামার পর নতুন করে চারা রোপণ করেন চাষিরা। কিন্তু আবারো বৃষ্টিতে ডুবে গেছে আমনের ক্ষেত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির মাঠ। এতে নতুন করে ক্ষতির মুখে কৃষক।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘পানি বাড়ার কারণে এখন সবকিছু ডুবে গেছে। এ কারণে কৃষকদের খুব অসুবিধা হচ্ছে।’
আরেক কৃষক বলেন, ‘অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’
তীব্র পানির তোড়ে ডুবে যায় দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বিভিন্ন অংশ।বন্ধ হয়ে যায় লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ।
ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা আশ্রয় নেন অনেকেই। তাদের জন্য খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানায় উপজেলা প্রশাসন।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘কবাখালী এবং মেরুং ইউনিয়নে অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুইটা ইউনিয়নেরই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এখানেও কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য শুকনো খাবার ও রান্নাকরা খাবার বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এক সপ্তাহ আগে বন্যায় খাগড়াছড়িতে ২৭৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শতাধিক মাটির ঘর।