লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে গুলি, আটক ১

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় সাকিব নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতা করেন জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি স্কুল থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছালে সাকিব ও তার কয়েকজন সহযোগী তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে অল্পের জন্য গুলির আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনি।

পরে সাকিব পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ঘেরাও করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এবং স্থানীয় দৈনিক মেঘনার তীর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাছ হোসেনের ছোট ভাই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাকিব হোসেন সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সাকিবের বিরুদ্ধে সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

সম্প্রতি সাকিব ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে জকসিন বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাকিবের মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই সাংবাদিক আব্বাছ হোসেন বলেন, ‘সাকিবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব ও তার সহযোগীরা জাহাঙ্গীরকে গুলি করেছেন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাহাঙ্গীর।’ সাকিবের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত সাকিবকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’