মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় দাস

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী তার মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কড়া পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে হাটহাজারী মেখলে নেওয়া হয়।

দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী জানান, চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন ধর মায়ের মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করে। তাদের মায়ের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পুণ্ডরীক ধামেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হাটহাজারীর মেখলে ধামে মৃত্যুবরণ করেন চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রানী ধর। তিনি ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। 

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষাগ্রহণের পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম নেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট। 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস। ওই বছর অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদোহ মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আইনজীবী আলিফের বাবার করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নাম না থাকলেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে প্রধান আসামি করে।

তার বিরুদ্ধে এখন মোট আটটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে বিচারাধীন। চিন্ময় হাই কোর্ট থেকে চার মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার থাকায় তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।