ফেনীতে চাঁদা দাবির অভিযোগে সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধের অভিযোগ

ফেনীতে ৫ শতাংশ চাঁদা না দেওয়ায় দুটি সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে। মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ইতোমধ্যে আদালতে দুটি মামলাও করেছেন ভুক্তভোগী দুই ঠিকাদার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতার দাবি, ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। 

ফেনী সদর উপজেলার সোমবাড়িয়া বাজার সংযোগ সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা করতে বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই কোটি টাকারও বেশি। এক মাস আগে কাজ শুরু হলেও ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদা দাবির পর তা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ ঠিকাদারের। একইভাবে সোনাগাজীর জিয়াউদ্দিন সড়কের কাজেও পাঁচ শতাংশ চাঁদা দাবি ও বাধার অভিযোগ তুলে আদালতে দুটি মামলা করেছেন দুই ঠিকাদার।

ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন বলেন, ‘চাঁদা দাবির পর আমরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।’
 
ঠিকাদার এনায়েতুল ইসলাম স্বপন, ‘আমাদের কাছে ৫ শতাংশ চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা আদালতে শরণাপন্ন হয়েছি।’

সড়ক দুটির কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা। গর্ত ও কাদা-পানিতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত সমস্যা নিরসন করে কাজ শুরুর দাবি তাদের।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক চক্রান্ত, দাবি অভিযুক্ত বিএনপি নেতার। তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে বিএনপি ও পুলিশ।

ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।’

ফেনী পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

ঠিকাদার ও বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি দাবির সত্যতা তদন্তেই উদঘাটিত হবে, আশা সংশ্লিষ্টদের। তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দ্রুত সড়ক দুটির নির্মাণকাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ লাঘবের জোর দাবি স্থানীয়দের।