সেতুতে রডের বদলে তার, প্রকৌশলী বরখাস্ত

নোয়খালীতে সেতুর কাজে রডের বদলে তার ব্যবহারের ঘটনায় এলজিএডির বেগমগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে রাঙামাটি জেলায় বদলি করা হয়েছে।

প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, তিনি দুই মাস হয়েছে বেগমগঞ্জে যোগদান করেছেন। ব্রিজটির কাজে অনিয়মের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যেসব জায়গায় কাজের মান খারাপ হয়েছে সেগুলো ভেঙে অপসারণ করেছেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার জানলেন তাকে রাঙামাটি জেলায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস.এম মহসীন দুপুরে দুজনকে বরখাস্তের বিষয়টি জানা নেই বললেও বিকেলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এলজিইডির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘ব্রিজটির কাজে অনিয়ম তদন্তে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসীনকে দিয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তদন্ত করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে এএসএম মহসীন বলেন, ‘অফিস আদেশ হাতে পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে ব্রিজটি দেখে এসেছি। প্রাথমিকভাবে কাজে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ সময় রাতের অন্ধকারে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছি। ঠিকাদারকে সবার উপস্থিতিতে দিনে কাজ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের স্লাব, রেলিং ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে। রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

এলজিইডি নোয়াখালী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর।

শুরুতে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজটি হাত বদল হয়ে ৫ কোটি ৬১ লাখ নতুন ব্যয়ে মো. ফরহাদ নামে একজন ঠিকাদার পান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম তাদের চোখে ধরা পড়ে। তবে, শেষের দিকে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে তার এবং নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কোনোমতে কাজ করে চলে যান ঠিকাদারের লোকজন। দিনে এসব স্লাবে পথচারীদের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ভেঙে পড়ে। একই ঘটনা ঘটে সেতুর রেলিংয়ের ক্ষেত্রেও।