চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধে গত আট মাসে ফেনীতে প্রায় ১২০০ মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের তৎপরতায় ঘাটতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় অপরাধীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। আর ভিন্ন জেলার দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য কমাতে বাড়ি ভাড়া দেয়ার সময় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পরামর্শ সচেতন মহলের।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার একটি বাসা থেকে চুরি হয় ৪ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা। এর আগের দিন সদর উপজেলার মধ্য ধলিয়া গ্রামে পাঁচ বাড়িতে হয় গণডাকাতি। এ সময় এক গৃহবধূর কানের দুল ছিনিয়ে নিতে তার কান কেটে দেয় ডাকাতরা।
এর আগে, ১৯ আগস্ট মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ডাকাতিতে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ১০ লাখ টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও উদ্ধার হয়নি মালামাল। একই মাসে শহরের সুলতারপুরে বাসায় চুরির ঘটনার সুরাহা হয়নি। প্রতিনিয়ত চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধের জেরে নিরাপত্তা শঙ্কায় পুরো জেলার মানুষ।
বছরের প্রথম আট মাসে নানা অপরাধে জেলায় প্রায় ১২০০ মামলা দায়ের হয়েছে। এর অর্ধেকই সদর থানায়।
ফেনী পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন মামলার আসামি ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার দেড় শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে অর্ধেকই অন্য জেলার বাসিন্দা।’
ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতি হবে।’
ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, ‘অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় পরিচয়পত্র যাচাই ও ভাড়াটিয়ার দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখা জরুরি।’
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ ও বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা।