রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপের সংঘাতের মাঝখানে পড়ে কস্মিকা ত্রিপুরা (৮) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মাচালং ১ নম্বর মন্দিরাছড়া ত্রিপুরা পাড়া এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শিশু কস্মিকা ত্রিপুরা স্থানীয় মন্দিরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে উলেন্দ্র ত্রিপুরা ও মনিকা ত্রিপুরা দম্পতির মেয়ে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাচালং এলাকার মন্দিরাছড়ায় আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে আকস্মিক বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় শিশু কস্মিকা ত্রিপুরা নিজের ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছিল। সংঘাত চলাকালে একটি গুলি ঘরের বেড়া ভেদ করে তার বাম হাতে বিদ্ধ হয়।
ঘটনার পর পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাচালং বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার হাত থেকে গুলিটি বের করা হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জৌপৈই থাং ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘরে অবস্থানকালেই শিশুটি হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অবুঝ শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি। বিবৃতিতে বলা হয়, পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এ ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ শিশুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং পাহাড়ে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’