কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানের পঞ্চম ধাপে অভিযানে কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটাপ’–এর মূলহোতা ৪ জনসহ ৩৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ অভিযান চলে শনিবার ভোর পর্যন্ত। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, পাঁচ ধাপের অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের চার ধাপে আটক ১ হাজার ১৩০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডাররা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ংকর দুটি কিশোর গ্যাং—‘টিম র’ এবং ‘ক্রাইম সেটাপ’-এর মূল নেতৃত্বদানকারী ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গ্যাং ‘র’–এর মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তার বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। আটক গ্যাং লিডার সাইফুল ইসলাম (২০)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া গ্যাং ‘ক্রাইম সেটাপ’ এর শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) কে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া আটক রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’। তার বিরুদ্ধেও একটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, কাউকে বাসা থেকে বা রেস্তোরাঁয় বসে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়নি। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার সময় যাদের রাস্তায় বা বাড়ির বাইরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে, তাদেরই আটক করা হয়েছে।
১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর এ অভিযান জোরদার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী তুহিনসহ দুই কিশোর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেক আসামি সিয়ামকে তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদক কেনা-বেচা, মাদক সেবন, অবৈধ মোটরসাইকেলের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো গ্যাং সদস্যকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।