চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভবনে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির অবস্থান নিয়ে এবার মুখোমুখি মেয়র ও পুলিশ। পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন, এমন নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়। তবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবি, নগর ভবনে কোনো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন না। অভিযানকে সাজানো নাটক বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে, মেয়রের সমালোচনার মুখে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করেছে সিএমপি।
হত্যা, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধসহ খুলশী থানার ২৩ মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন বগাকে ধরতে মঙ্গলবার রাতে নগর ভবনে অভিযানে যায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ওয়াকিল নগর ভবন এলাকায় অবস্থান করছেন এমন নিশ্চিত তথ্য ছিল তাদের কাছে। তবে অভিযান ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনা। পুলিশের সঙ্গে মেয়রের অনুসারীদের বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের একপর্যায়ে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরতে হয় পুলিশকে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার আমিনুর রশীদ বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের অফিসে ঢোকার রাস্তা, ওখানে ইস্পাহানি মোড়ের দিকে, আবার এ পাশে নেভি কনভেনশনের এইদিকে আমাদের গোয়েন্দা টিম উৎপেতে ছিল ধরার জন্য। সে তো দাঁড়িয়ে ছিল না। কোথাওনা কোথাও তার চলাচল ছিল। তাকে আমরা ধরতে পারনি। তবে আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
অভিযোগ ওঠে, মেয়রের হস্তক্ষেপেই ওয়াকিল গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরীর ঈদগাহ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ওয়াকিলের মা ও ভাই এসেছিলেন নগর ভবনে। তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই ওয়াকিলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। যদি নিচে গিয়েও থাকে এটা পুলিশের দায়িত্ব। এটা তো আমার দায়িত্ব না। কেউ যদি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়ে থাকে সে তো সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ছিল। এটা আসলে সামনে যে নির্বাচন; এই নির্বাচনে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এটা করা হয়েছে।’
নগর ভবনে আদৌ ওয়ারেন্টভুক্ত কোনো আসামি ছিল কিনা, এ নিয়েই এখন মুখোমুখি মেয়র ও পুলিশ। আর এ ঘটনাকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।