রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে থাকা ৩৪৩টি দোকানের মধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে ২১৭ টি দোকান। সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা এ তথ্য জানান। তবে মাজুতা-কাপড়- মুদিসহ মার্কেটের থাকা নানা দোকানপাট পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। তাদের কান্নায় ভারী কৃষি মার্কেটের বাতাস।
এদিকে আগুনের ঘটনায় বুথ খুলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নিজেদের উপার্জনের প্রতিষ্ঠানটি চোখের সামনে পুড়ে ছাই হতে দেখে শোকস্তব্ধ তারা। জানাচ্ছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা।
শামীমা বেগম- মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ছিল তার ২টি দোকান। আগুনে পুড়ে গেছে দোকানের সবকিছু। নিস্ব হয়ে এভাবেই কান্নায় ভেংগে পরেন তিনি।
সুমন নামের এই ব্যবসায়ীর ৫টি দোকান ও ৮টি গোডাউন ছিল এই মার্কেটে। টানা ৬ ঘন্টার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দোকানের সব।
কৃষি মার্কেটে ছোট-বড় দোকান ছিল সাড়ে তিনশর মতো। তার বেশিরভাগই এখন লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই। নিজেদের উপার্জনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখে কেউ শোকে স্তব্ধ, কেউ আবার ভেঙে পড়েন কান্নায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুন নিয়ন্ত্রণে ধীরগতির কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করেন অনেকে।
একদিন আগেও সব কিছু ছিল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। ৬ ঘন্টার আগুনে মালামালের সাথে পুড়ে গেছে তাদের স্বপ্নও। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা কোনো মার্কেটে আগুন লাগলেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। আর কতো বার আগুন লাগলে টনক নড়বে সংশ্লিষ্টদের- এটিই বড় প্রশ্ন এখানে নিশ্ব হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের।
এর আগে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিটের প্রায় ৬ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে পুলিশ-সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী এবং বিজিবি। রাত ৩টার দিকে সেখানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। পরে আরও ১০টি ইউনিট যোগ দেয়। এলাকায় পানি সংকটের কারণে শুরুতে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। পরে ওয়াসার সহায়তা নেওয়া হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
পড়ে যাওয়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইন্টেন্যান্স) লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে জানিয়ে লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মার্কেটের মুদি দোকানের দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কী ভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো তা জানা যায়নি। সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে, শর্ট সার্কিট থেকে. না কি বিড়ি-সিগারেট বা মশার কয়েলের আগুন থেকে, না কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তা জানা যাবে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।