স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে দেড়গুণ, স্ত্রীর ৪ গুণ 

গত পাঁচ বছরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সম্পদ বেড়েছে দেড়গুণ। এই সময় তার স্ত্রী তাহমিনা খানের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। ৭ জানুয়ারির ভোটে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেড়গুণ বাড়লেও হলফনামায় দুই কোটি টাকা ঋণ দেখিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে ৮৪ লাখ টাকার বেশি। 

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা-১২। তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল, শের-এ-বাংলা নগর ও রমনা এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খাঁন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য । ২০১৪ তে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণে জানা যায়, আসাদুজ্জামান খাঁন নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে ৮৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। যা গত নির্বাচনে ছিল ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৬ টাকা। আর ১০ বছরে মন্ত্রীর নগদ টাকা বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রী হিসেবে বছরে আসাদুজ্জামান খাঁন বেতন পেয়েছেন ২৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও ফরেন রেমিটেন্স হিসেবে পান ১৩ লাখ টাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয়ের ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এসেছে রেমিটেন্স থেকে। তবে কীভাবে রেমিটেন্স এসেছে তা উল্লেখ নেই। 

ব্যবসা থেকে বছরে মন্ত্রীর আয় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৬ টাকা। এর বাইরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে তিন কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে ১৭১ শতাংশ কৃষি জমি থাকলেও সেখান থেকে বাৎসরিক আয় নেই তাঁর।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি গাড়ি আছে। সংসদ সদস্য কোটায় কেনা এ দুটি গাড়ির দাম ১কোটি ৬১ লাথ ২২ হাজার টাকা। আছে নিজের নামে ১০ ভরি এবং স্ত্রীর কাছে ২০ ভরি স্বর্ণ। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী তাহমিনা খানের আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন তাঁর আয় এক কোটি সাত লাখ ৫৬ হাজার টাকা। যা অংশীদারী ফার্মের ব্যবসা থেকে এসেছে। অথচ একাদশ নির্বাচনের সময় তাঁর নগদ টাকা ছিল ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৬ টাকা। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৭১ হাজার ৫২ টাকা। যা ২০১৮ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় ছিল ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৩৭ টাকা। 

তবে, হলফনামা অনুযায়ী, আর্থিক দায় হিসেবে ঋণ বাবদ দুই কোটি টাকা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।