বইমেলায় ৬৩৫ প্রকাশনীর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি

এবারের বইমেলায় অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকাশনী সংস্থা। অথচ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বই এনেছে কেবল স্পর্শ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের স্টলটিও বইমেলার একটু আড়ালে, বাংলা একাডেমিতে। এরা মেলায় নতুন বই এনেছে ১৯টি। যার মধ্যে রয়েছে কবিতা ও উপন্যাস। তবে দৃষ্টিজয়ীদের চাওয়া, প্রতিটি স্টলেই অন্তত একটি ব্রেইল বই রাখা হোক।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে বলেই তারা দৃষ্টিজয়ী। চেতনা ও মননে একজন সুস্থ ব্যক্তির চেয়ে তারা পিছিয়ে নেই একটুও। বইয়ে হাত রেখেই তারা পড়ে ফেলতে পারে হাজার হাজার পাতা। একুশের বইমেলায় তাদের জন্য ব্রেইল বই এনেছে স্পর্শ। বাংলা একডেমি প্রাঙ্গণে সেই স্টলে তাই দৃষ্টিজয়ীদের আনাগোনা।

মেলায় আসা একজন দৃষ্টিজয়ীর মা জানালেন তাঁর অভিযোগের কথা। তিনি বলেন, এত বড় মেলা প্রাঙ্গণে তাঁর মেয়ের জন্য বই কেনার স্টল নেই বললেই চলে। অথচ অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতোই তাঁর মেয়েরও আছে সব ধরনের বই পড়ার আগ্রহ, বিভিন্ন বিষয় জানার আগ্রহ।

এবার স্পর্শ নতুন বই এনেছে ১৯টি। যার মধ্যে রয়েছে জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি ও লুৎফর রহমান রিটনের খরগোশটা গিটার বাজায়। আরও বেশি ব্রেইল বই প্রকাশের ইচ্ছা রয়েছে তাদের। কিন্তু এতে রয়েছে কপিরাইট জটিলতা ও বাজেট সংকট।

এ প্রসঙ্গে স্পর্শ ফাউন্ডেশনের সদস্য রবিউল হাসান জানান, একটি সাধারণ বইয়ের পাতা ব্রেইলে প্রকাশে প্রয়োজন হয় তিন পাতা। এক একটি পাতার জন্য খরচ হয় সাত থেকে নয় টাকা। এ কারণেই অনেকে এত বেশি খরচে বই প্রকাশে আগ্রহ প্রকাশ করে না।

বই পড়া ও জ্ঞান অর্জনের অধিকার সবারই সমান। তাই বইমেলায় আরও ব্যবস্থা রাখার তাগিদ দিয়েছেন দৃষ্টিজয়ীরা। তারা বলছেন, প্রতিটি প্রকাশনা সংস্থা অন্তত একটি করে ব্রেইল বই প্রকাশ করলে তাদের বই পড়ার চাহিদা অনেকটাই মেটানো সম্ভব হতো।